টাইফয়েড জ্বর (Typhoid Fever),লক্ষণ,চিকিৎসা

0
1039
Typhoid Fever
Typhoid Fever

টাইফয়েড জ্বর: 

টাইফয়েড জ্বর মেডিকেল ভাষায় বলা হয় ইন্টারিক জ্বর। টাইফয়েড জ্বর এবং পারাটায়ফোয়েড জ্বর উভয়ই  ইন্টারিক জ্বর অন্তর্গত। প্রতিবছর প্রায় ২১ লক্ষ লোক টাইফয়েড জ্বর আক্রান্ত হয় এবং ২ লক্ষ লোক মারা যাই। সতরাং বোঝতেই পারসেন টাইফয়েড জ্বর কত মারাত্মক। এখন আসা যাক টাইফয়েড জ্বরটি  কিভাবে হয়।  এটি একটি খাদ্য এবং পানি বাহিত রোগ। সতরাং কোনো খাবার বা পানিতে টাইফয়েড রোগ এর জীবাণু সেরমোনেলা টাইফি ১ লাখ এর বেশি পরিমানে থাকে তবে ওই খাবার বা পানি পান করলে যেকোনো ব্যক্তি এক থেকে দুই সপ্তাহ পরে টাইফয়েড জ্বর এ আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত স্কুল কলেজ এর ছেলে মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়। কারো রাস্তা থেকে খাওয়া ফোসকা, চটপটি এবং এর সাথে খাওয়া সস এর মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বর এর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। এছাড়াও আইস্ক্রিম কোনো পানিওর সাথে খাওয়া দুধ আর সাথে খাওয়া বরফ যেগুলো সব সময় মিনারেল ওয়াটার বা ফোটানো পানি দিয়ে তৈররি করা হয় না ওগুলো খাবার পরে টাইফয়েড জ্বর আক্রান্ত হইতে পরে।

টাইফয়েড জ্বর এর লক্ষণ :

যেহেতো এটি একটি জ্বর সতরাং জ্বরই এর প্রধান লক্ষণ। তবে অন্যানো জ্বর আর সাথে এর  একটু পার্থক্য আছে যেমন এটি খুব অল্প মাত্রায় শুরু হয় এবং যত দিন যাই এর মাত্রার আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। এছাড়াও ভাইরাল জ্বর এর মতো গায়ে গায়ে ব্যাথা গিটে গিটে ব্যাথা কোনো রোগীর আসতে পারে।  এটি একটি বহু প্রক্রিয়া রোগ যে শরীরের যেকোনো অংঙ্গ প্রত্যংগ আক্রান্ত হতে পারে। সেই জন্য কোনো কোনো রোগী কাশি বা নিউমেনিয়া প্রসবে জ্বালা পোড়া, প্রসবে ইনফেকশন এবং কখনো কখনো ডায়রিয়া, কখনো কখনো মাথা ব্যাথা নিয়েও উপস্থিত হতে পারে। যখন রোগ টি অনেক মারাক্তক আকার ধারণ করে তখন কোনো রোগী ঘুম ঘুম ভাব বা উলটা পাল্টা কথা বাত্রা এরকম ও হতে পারে। টাইফয়েড জ্বর আক্রান্ত প্রথম সপ্তাহে শেষের দিকে বা দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিকে গায়ে কখনো কখনো মশার কামড় এর মতো  রেশ দেখা যাই জেক বলা হয় রোষে স্পট। এটি সাধারণ তো পেটে, বুকে বা পিঠের উপরিভাগে এবং বাহুতে দেখা যাই। তাহলে আমরা জেনে নেই টাইফয়েড জ্বর কি কি পরীক্ষা করতে পারি। টাইফয়েড রোগীকে সাধারণত সাবেক বা ব্লাড কাউন্ট , লিভার এনজাইম ,উইরিন এবং প্রথ দুই সপ্তাহে ব্লাড কালচার করতে পারি। ব্লাড কালচার হচ্ছে টাইফয়েড রোগ এর কোফার্মাটিভ টেস্ট।  এটি ছাড়া তৃতীয় ও চথুর্ত সপ্তাহে উইরিন kalcher পসিটিভ হতে পারে।

টাইফয়েড রোগের চিকিৎসা:

এন্টিবায়োটিক ছাড়া টাইফয়েড রোগে কোনো ভাবেই চিকিৎসা করা যাই না। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু কথা মনে রাখতে হবে যে অনেক সময় রোগীরা আসে পাশের লোকের কথা শুনে এন্টিবায়োটিক শুরু করেন। কিন্তু ডাক্তার আর পরার্মশ ছাড়া কোনো এন্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক না। কারো কেউ কেউ দেখা যাই যে  প্রস্রাবে ইনফেকশন জন্য স্কিন এর সমস্যার জন্য দাঁতে ব্যাথার জন্য বা কাশের জন্য এন্টিবায়োটিক খেয়েছে আগে যা  টাইফয়েড রোগের ও চিকিৎসা করা হয় সেগুলো আবার যদি টাইফয়েড রোগের জন্য খাওয়া হয় দেখা যাই এন্টিবায়োটিক কাজ করে না। একটি সমস্যা আমাদের প্রায় পড়তে হয় যে টাইফয়েড রোগের এন্টিবায়োটিক শুরু করার পাঁচ ছয় দিন পরেও জ্বর একেবারে কমে আসে না। তখন দেখা যাই যে রোগী এবং রোগীর লোকজনেরা অস্থির হয়ে পড়েন। কখনো কখনো ডাক্তার কে এন্টিবায়োটিক পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেন আবার কখনো কখনো ডাক্তার পরিবর্তন করেন। এক্ষেত্রে  রোগীদের ধর্য্য ধরতে হবে। কারণ বই পত্রে লিখা আছে এন্টিবায়োটিক খাওয়ার ৫-৬ দিন পরে জ্বর সম্পন্ন নায়ও ভালো হতে পারে। তাহলে আমরা কিভাবে বোজবো এন্টিবায়োটিক কাজ করসে। যদি রোগীর মাথা ব্যাথা কমে আসে ,যদি রোগীর ক্ষুধা বেড়ে যাই, বা জ্বরের প্রকোপ আগের চেয়ে কমে আসে।  তাহলে আমরা বুজতে পারবো এন্টিবায়োটিক কাজ  করতেসে।

টাইফয়েড রোগীর খাদ্য :

আসলে টাইফয়েড রোগীর জন্য ধরা বাধা  কোনো খাদ্য তালিকা নাই। তবে অন্নান্য জ্বরে যে খাবার  যেমন প্রচুর পরিমান পানি ,সহজে হজম হয় এইরকম খাবার এটি টাইফয়েড রোগীরাও খেতে পারেন।

ডাঃ আফসানা বেগম
অ্যাসোসিয়েট  কনসাল্টেন্ট (মেডিসিন )
ইউনাইটেড হাসপাতাল লিঃ, গুলশান -২
ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here